ইসিকে ইমেজ ফেরানোর তাগিদ

0
18

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ভয়মুক্ত ও সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতে নির্বাচন কমিশনকে ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের তাগিদ দিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। বিগত ৫ই জানুয়ারির মতো আর কোনো নির্বাচন যাতে না হয় সে বিষয়েও নিজেদের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তারা। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের পরামর্শ শুনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা জানিয়েছেন, তারা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কাজ করছেন। সবার মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ইসি তার কৌশল নির্ধারণ করবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে গতকাল নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ইসির সঙ্গে আলোচনায় বসেন। বেলা ১১টার পর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার  কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে এ সংলাপ শুরু হয়। সংলাপে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশনকে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার জন্য আহ্বান জানানো হয়। নির্বাচকালীন সময়ে প্রার্থী ও ভোটারদের ভয়ভীতি দূর করতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবিও ওঠে। সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের আইনে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুলেছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। নতুন নির্বাচন কমিশনের প্রথম এ সংলাপের শুরুতে ছবি তোলার জন্য সাংবাদিকদের ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হলেও সংলাপ চলার সময় সেখানে সাংবাদিকদের থাকতে দেয়া হয়নি।

সংলাপ থেকে বের হয়ে পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আমন্ত্রিতরা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রত্যাশা তারা যেন গত ইলেকশন কমিশনের মতো না হয়। ভোটাররা যেন শান্তিমত ভোট দিতে পারে। কোনো কারচুপি না ঘটে। কারচুপি হলে নির্বাচন বাতিল করতে হবে। প্রয়োজনে একাধিকবার ভোট হবে। আবার কারচুপি হলে আবার ভোট নিতে হবে। অনেকেই পার্লামেন্ট বাতিলের কথা বলেছে। অনেকে বলেছেন পার্লামেন্ট থাকাই ঠিক। আবার অনেকে বলেছেন বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক যেন না আসে। তিনি আরো বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করতে হবে। সব দলকে ভোটে আনতে হবে এবং এ জন্য সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে আইনে ঘাটতি থাকলে তারা ব্যবস্থা নেবেন। নাগরিক প্রতিনিধিরা সঙ্গে থাকবেন। আগামীতে ১ কোটি প্রবাসী নাগরিকদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ভোট দেয়ার সুযোগ তৈরির পরামর্শ দেন তিনি। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ- সিপিডি’র সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ইসিকে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। তারা দৃঢ় স্বাধীন ভূমিকা নিয়ে মানুষের কাছে দৃশ্যমান করতে হবে এবং তা প্রমাণ করতে হবে। নির্বাচনী আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে অনেক দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। প্রশাসন কীভাবে নিরপেক্ষ থাকবে এবং তাদের নিরপেক্ষ রাখতে ইসি কীভাবে ভূমিকা রাখবে- তা দেখতে হবে। তিনি জানান, তফসিল ঘোষণার আগে ইসির করার কিছু নেই- এমন বক্তব্যকে আমরা অনেকে গ্রহণ করিনি। এখন থেকে ইসির অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে। ধর্মকে নির্বাচনী প্রচারে কোনোভাবেই নেয়া যাবে না। সেনাবাহিনীকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে রাখতে হবে। পাশাপাশি এ দুটো বিষয়ে ভিন্নমতও এসেছে আলোচনায়। তিনি জানান, নির্বাচনী ব্যয়কে নিয়ন্ত্রণে আনতে আরো বেশি স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা রাখতে হবে। প্রয়োজনে আলাদা আইন করতে হবে। ড. দেবপ্রিয় বলেন, নাগরিক সমাজের পক্ষ  বিস্তারিত…